মুরসালিন রহমান বিশেষ প্রতিনিধিঃ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্ন মানের তিন নাম্বার ইট ও ইটের শুরকি ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। উপজেলার তালতলা বাজার থেকে বয়ড়াগাদী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩কি.মি প্রিচ ঢালাই রাস্তা নির্মানের দায়ীত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হলি বিল্ডার্স। রাস্তাটি নির্মানের কাজ শুরুর পর থেকে নিম্ন মানের সামগ্রী তথা তিন নাম্বার ইট ও ইটের শুরকি ব্যবহার করায় অভিযোগের ঝড় তোলেন এলাকাবাসী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে । সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালতলা বাজার থেকে বয়ড়াগাদী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩কি.মি এ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজটি নির্মান সম্পূর্ণ করার দায়ীত্ব পায় মের্সাস হলি বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখা হলেও কয়েক দিন ধরে পুনরায় নির্মান কাজ শুরু করা হয়েছে। যার মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের ইটের সংমিশ্রিত শুরকি। রাস্তাটি নির্মানে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, রাস্তাটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে ১ কোটি ৯৮ লাখ ১০হাজার ৪ শত ৫১টাকা বরাদ্দে মের্সাস হলি বিল্ডার্স এন্ড ডেভেলপার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উপর দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ সুজাতুল ইসলাম রাস্তাটি নির্মানের লক্ষ্যে ২৫-৩০ জন জনবল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, আমাদের এ রাস্তাটি বহুদিন ধরে ইট সোলিং ছিলো। প্রায় ২বছর আগে কাজ ধরেছিলো। কিন্তু দির্ঘ দিন কাজ বন্ধ ছিল। গত কয়েক দিন ধরে সংস্কার কাজ শুরু করেছে তারা। আগের পুরনোইট ও নতুন ৩নাম্বার ইটের শুরকি মিলিয়ে রাস্তার নিচে বিছানো হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ ভাবে খারা করে যে ইট লাগানো হয়েছে সেগুলোও একেবারেই মানহীন। সড়কটির কাজ শুরুর পর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা নিম্ন মানের ইট ও ইটের শুরকি ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই খতিয়ে দেখেনি।

তারা বলেন, রাস্তা তৈরিতে এক নম্বর ইট ও ইটের সুরকি ব্যবহার করার কথা থাকলেও তিন নম্বর ইট ও ইটের সুরকি দিয়ে করা হচ্ছে রাস্তার কাজ। এছাড়া রাস্তার সুরক্ষাবাধ হিসেবে দুপাশে ব্যবহৃত ইটেরও কোন মান নেই বললেই চলে। রাস্তায় একেবারে পঁচা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সাথে আঁতাত করে ঠিকাদার নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কোনো রকমে কাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তা দেখেও না দেখার ভান ধরে নিশ্চুপ। এছাড়াও স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন আর রশিদ কে এবিষয় একাধিক বার বলেও কোন কাজ হয়নি,ইউপি সদস্য আলু নিয়ে ব্যস্ত, এ ব্যপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধীকারীর মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিরাজদিখান (এলজিইডি) প্রকৌশলী শোয়েব বীন আজাদ বলেন, অনেক সময় রাস্তার পুরোনো ইট শিডিউলের সাথে ধরা থাকে। সেগুলোর সাথে নতুন ইটের শুরকি মিক্স করে দেওয়া হয়। রাস্তার পুরাতন ইটগুলো সরকার থেকে তারা কিনে নিয়ে ব্যবহার করে। যদিও অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।