মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার,

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নিয়মনীতির কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিন ফসলী জমিতে অবৈধ ড্রেজিং বসিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করে বিক্রির একাধিক অভিযোগ উঠেছে বাসাইল ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি আব্দুস সালাম মনুর বিরুদ্ধে। কখনো মৎস্য খামারের ব্যানারে, কখনো স্কুলের মাঠ ভরাট, কখনো আবার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি ভরাটের নাম করে বছরের অধিকাংশ সময় জুড়ে ফসলী জমির মাটি কেটে বিক্রি করে ড্রেজিংয়ের রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার শতাধিক তিন ফসলী জমি। গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চরবিশ্বনাথ মৌজাস্থিত চরবিশ্বনাথ উত্তর চকের তিনটি স্থানে কয়েক একর জায়গা জুড়ে অবৈধ ড্রেজিং বসিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবৎ বালু উত্তোলন করে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে আসছেন ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মনু। সরকারী নিয়ম-নীতির কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ। ৩০-৪০ ফুট বা এর চেয়ে গভীর করে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের ফলে ড্রেজিংকৃত জমি সমূহের চারপাশে প্রায় কয়েক’শ জমি ভাঙন হুমকির কবলে পরেছে। ফলে শুকনো মৌসূমে ভাঙন হুমকির কবলে পরা জমি সমূহের মালিকদের ফসল আবাদে বড় ধরনের ক্ষতি সম্মুক্ষিন হতে হবে। এছাড়া চরবিশ্বনাথ মিজানুর রহমান মালুর মুদি দোকান সংলগ্ন সরকারী রাস্তা কেটে ড্রেজিং পাইপ স্থানপ করে সরকারী সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করেছেন আব্দুস সালাম মনু। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধের সামিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরবিশ্বনাথ মৌজাস্থিত চরবিশ্বনাথ উত্তর চকের তিন ফসলী কৃষি জমিগু লোতে শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করা হয়। বর্ষার পানি কমার সাথে সাথে সেসব জমিতে ওই এলাকার স্থানীয় কৃষক
ধানের আবাদ করবেন। তবে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মনুর অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে ভাঙনের কবলে পরার কারণে ফসল আবাদ করতে না পারার শঙ্কা কৃষকদের জেকে বসেছে। ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুস সালাম মনু স্থানীয় ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কৃষিজমির ক্ষতি করে দাপটের সাথে ফসলী জমি থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বছর জুড়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করে চলেছেন।ওই এলাকার কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও দলীয় ও স্থানীয় প্রভাবের ভয়ে প্রতিবাদ করতে না পেরে অনেকেটা বোবা বনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে ইতিপূর্বে আব্দুস সালাম মনু স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীকে সাথে নিয়ে অবৈধ ভাবে চালালেও বর্তমানে তিনি একাই অদৃশ্য ক্ষমতা বলে দাপটের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মর্মে স্থানীয় বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী মুঠোফোনে জানিয়েছেন। অন্যদিকে আব্দুস সালাম মনুর অবৈধ ড্রেজিং নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করা হলেও তার বিরুদ্ধে এ যাবৎকাল পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে অনেকটা দাপটের সাথেই চালাচ্ছেন অবৈধ ড্রেজিংয়ের কর্মযজ্ঞ। এব্যাপারে বাসাইল ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি আব্দুস সালাম মনুর মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় নিমতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বক্তব্য চাইলে সাংবাদিকদের অর্থের প্রলোভনে ম্যানেজের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং তিনি এ ব্যপারে বক্তব্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল আলম তানভীর জানান, আপনি লোকেশনটা আমাকে দিন। আমি আগামীকাল থেকেই ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।