স্টাফ রিপোর্টার,

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের সর্বজন সমাদ্রিত রশিদ মাস্টার আজকের এই দিনে মৃত্যু বরণ করেন। আজ তার ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। তিনি ২০০৪ সালের ২০ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পারি জমান। তিনি কেবল সর্বজন সমাদ্রিতই ছিলেন না, তিনি সিরাজদিখান উপজেলাসহ মুন্সিগঞ্জ জেলার মানুষের কাছে অত্যান্ত প্রিয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। এছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার বিচরণের স্মৃতি আজও মানুষের মুখে মুখে ভেসে বেড়ায়। সিরাজদিখানে তিনি ছিলেন জয় বাংলার ফেরিওয়ালা। বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে ছিলেন সমাজ সংস্কারক, অভিনেতা, নাট্যকার, আবৃতিকার ও শিক্ষক। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন। প্রয়াত নায়ক রাজ্জাক সাহেব ছিলেন তার বন্ধু।অভিনয় জগতের পাশাপাশি তিনি ছিলেন কবিতা আবৃতিতে পারদর্শী। মুন্সীগঞ্জের সেরা আবৃতিকার হিসেবে খ্যাতি ছিল তার। বাংলা একাডেমী থেকে পেয়েছেন নটরাজ আখ্যা। চমৎকার কন্ঠের জাদুতে মানুষ ছিল মুগ্ধ। বক্তা হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। অবিকল বঙ্গবন্ধুর কন্ঠ তার কন্ঠে ফুটে উঠতো। তার বক্তব্য শোনার জন্য এলাকার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। মাইকে কন্ঠ ভেসে আসলেই বুঝা যেত রশিদ মাস্টার বক্তব্য দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল তার অকৃত্রিম ভালোবাসা। এলাকার জনগণ তাকে ভালোবেসে শেখ সাহেব বলে ডাকতো। উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ২০ ডিসেম্বরের এই দিনে রশিদ মাস্টারের মৃত্যুবার্ষীকিতে পারিবারিক ভাবে তার আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাতসহ মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মুক্ত হাতে দান করা হয়।