স্টাফ রিপোর্টার

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রেমিকার মায়ের মিথ্যা সংবাদে মারুফ খান (১৯) নামে এক প্রেমিক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রেমিকা নুসরাত জাহানের পরিবারের বিচারের দাবীতে গতকাল সোমবার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। নিহত প্রেমিক যুবক উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের দানিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ রফিক খানের ছেলে এবং প্রেমিকা দক্ষিন তাজপুর গ্রামের নিলু বেপারী মেয়ে নুসনাত জাহান (১৭)। এসময় নুসরাত জাহানের মা পারুল বেগমসহ পরিবারের লোকজনের দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবী করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের দানিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ রফিক খানের ছেলে মারুফ ও একই ইউনিয়নের দক্ষিন তাজপুর গ্রামের নিলু বেপারীর মেয়ে নুসরাত জাহান একসাথে পড়াশোনা করতো এবং তাদের সাথে দীর্ঘদিন দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো। তাদের প্রেমের সম্পর্ক উভয়ের পরিবার জানতে পেরে পারিবারিক ভাবে প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় গত বছর মারুফ ও নুসরাত জাহান কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাদের ফিরিয়ে এনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্ততায় উভয়ের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরও তারা নিয়মিত গোপনে দেখা স্বাক্ষাৎ ও কথপোকথন চালিয়ে যাচ্ছিলো। গত ১৮ মার্চ শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নুসরাত জাহানের মা পারুল বেগম মারুফকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মেয়ে নুসরাত জাহান তার চাচাত ভাইয়ের সাথে পালিয়ে গেছে মর্মে মারুফকে জানায় এবং তার মেয়েকে ভুলে যেতে বলে। মায়ের মুখে প্রেমিকা নুসরাতের পালিয়ে যাওয়ার কথা শুনে প্রেমিক মারুফ ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার কষ্টে ওই দিন রাতেই কীটনাশক পান করে আত্নহত্যার চেষ্টা করে। পরে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় চিকিৎসার জন্য মারুফকে মির্ডফোর্ড হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ঘটনার ৯ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গত ২৭ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে মৃত্যু বরণ করে মারুফ। নিহত মারুফের বড় ভাই ভুক্তভোগী হান্নান খান অভিযোগ করে বলেন, শবেবরাতের রাত ১২ টার দিকে নুসরাতের মা পারুল বেগম আমার ভাইয়ের ফোনে ফোন করে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে চাচাত ভাইয়ের সাথে নুসরাত পালিয়ে গেছে বলে। এ কারণে আমার ভাই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি কিন্তু আমরা তাকে বাচাতে পারি নি। নুসরাতের মায়ের কারণে আমার ভাই আত্মহত্যা করেছে। আমরা তাদের বিচার চাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, না আপাতত আমরা মামলা করবো না। কারণ উপজেলা চেয়ারম্যান বিষয়টির দায়ীত্ব নেওয়ার জন্য লিখিত দিতে বলেছে। এর আগেও তিনিই ঝামেলার সমাধান করেছিলেন। এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত নুসরাত জাহানদের বাড়িতে গেলে কাউকে না পেয়ে স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ঘটনার পর পরই তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আত্নগোপন করেছে। কোথায় আছে আমরা কেউ জানি না।