মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মিথ্যা মামলা, বাড়ী-ঘর ভাঙচুর, লুট, জমি দখলসহ নানা ভাবে হয়রানীর অভিযোগ এনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী একটি পরিবার। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সিরাজদিখান প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মো. ইদ্রিস মিয়ার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এ্যানি আক্তার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৩ জানুয়ারী সকাল অনুমান সাড়ে ১১ টার দিকে ঢালী আম্বার নিবাস রিসোর্টের মালিক হাজী নজরুল ইসলাম ঢালী ও তার সহযোগী মাসুমের নির্দেশে আক্তার হোসেন (৫৪), রাজিব হোসেন (৩৬) ও মাসুম (৪২) নিজে উপস্থিত থেকে দুই শতাধিক লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়ীতে হামলা করে। বসত বাড়ীর ঘর, ভিটি বাড়ীর সীমানার বেড়া ভেঙ্গে ফেলে ও বাগানের কাঠগাছ ও কলাগাছগুলাে কেটে ফেলে । এ সময় তারা ঘরের টিন, বেড়ার ও ঘরে থাকা আসবাব পত্র লুট করে রিসোর্টের ভীতরে নিয়ে যায়। জোর করে তারা আমাদের উচ্ছেদ করতে জমি ও বাড়ী দখলের চেষ্টা করে। এ সময় মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারণ করতে গেলে তারা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং বাড়ীতে থাকা মহিলাসহ বাবা-মা, ছোট ভাই ও ফুফুকে আঘাত করে। তখন আমরা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা কামনা করি। এলাকার অনেকে আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে আমাদের জায়গা দখল করতে তারা ব্যার্থ হয়। এ ঘটনায় একাধিক পত্রপত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। হাজী নজরুল ইসলাম ঢালীর সহযোগী মাসুম, আক্তার, রাজীব ও আওলাদ অনেক দিন ধরে হুমকী দিচ্ছে আমরা যেন মালপদিয়া মৌজার ৩৫ শতাংশ জায়গা আমরা যেন ছেড়ে দেই। তা-না হলে আমাদের ঘর ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ করবে। আমার ভাইদের নানা মামলায় দিবে, পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে আমাদের মারধর করবে। এর আগের ঘটনা নিয়ে আমরা যেন মামলায় না যাই সে হুমকীও দিয়েছে তারা। আমারা একটি মামলায় গেলে তারা ১০ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করার হুমকী দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মিথ্যা মামলাও দিয়েছে। আমাদের এ জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান আছে। অযথা, মিথ্যা নানা ধরনের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। এতো মামলা চালানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আমরা অত্যাচারিত হয়েও চুপ করে সহ্য করছি। এত অন্যায় তারা করার পরও তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলাও করি নাই। বর্তমান তাদের অত্যাচার দিন দিন নানা কৌশলে বেড়েই চলছে। এমতা অবস্থায় আমাদের মরা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। নজরুল ঢালীর রিসোর্টের এক কর্মচারী আক্তার হোসেন বাদী হয়ে আমার ছোট দুই ভাইকে প্রধান আসামী করে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, লুটতরাজ, হত্যাচেষ্টা, ইভটিজিং জায়গা দখলের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করে। যার নং-২৬। তারা আমাদের বাড়ী ঘর দখলের সময় এলাকার যারা বাঁধা দিয়েছিলো তাদেরকেও এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এর আগে তারা আমার বড় বোন জামাইকে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী বাহেরকুচি গ্রামের শুভ্র আহমেদের ছেলে অনিক ছাত্রলীগের এক সদস্য তাকে মারধর করে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয় তারা। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সিরাজদিখান থানায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারী সাধারণ ডায়রী করি। আমাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। জানিনা সামনে কি হবে, বেঁচে থাকতে পারবো কিনা! আমরা ১৪ বছর আগে ২০০৭ সালে আব্দুল হাইয়ের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক হই। এর পর থেকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী হয়ে আসছি। ওই দাগের ৩৫ শতাংশের মালিক আমরা। সাথে ১১ শতাংশ ভেস্টেট ছিলো সেটাও আমাদের ভোগ দখলে ছিলো। ২০১৭ সালে ঢালীর লোকজন আমাদের বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য, আমরা রাজী হই নাই। তারা আমাদের বিলে- চকে জমির পরিবর্তে জমি দিতে চেয়েছিলো, সাথে ৫ লাখ টাকাও । রাজী না হওয়ায় তারা হুমকী দেয় জায়গা রাখতে পারবানা। এমন ব্যবস্থা করবো জায়গা ফেলে পালাতে হবে। তারা আমাদের উচ্ছেদের জন্য চেস্টা করে ব্যর্থ হয়ে একটা মিস কেস দায়ের করে। যার নং ২৮৩/১৭-১৮। এরপর বিজ্ঞ আদালত আমাদের কাগজপত্র দেখে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ-বেচা-বিক্রি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর আব্দুর হাইয়ের ছােট ভাই নজরুল ঢালীর পরামর্শে তার নিকট ওয়ারিশ হিসেবে জমি বিক্রি করে। অথচ পারিবারিক বন্টন নামা অনুযায়ী তারা এখানের মালিক না। এটি মৃত আব্দুল হাইয়ের, যার নিকট থেকে আমরা জমি কিনে ছিলাম। আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনসহ সুশীল সমাজের সার্বিক সহযোগীতা চাই। আমরা এই নির্যাতন, অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই, আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই, আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই।