স্টাফ রিপোর্টার,

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জয়নব নেছা ঝর্না ওরফে সাথী (৩০) নামে গৃহবধূ আত্নহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী অভিযুক্ত হারুণ মোল্লাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত হারুন মোল্লা উপজেলার উত্তর রক্ষিত পাড়া গ্রামের মোশারফ মোল্লার ছেলে ও নিহত ওই গৃহবধূ ঢাকা জেলার লালবাগের কোস্তা চামড়াপট্টির বাসিন্দা মো. জয়নাল বেপারীর মেয়ে। গত সোমবার সকালে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের উত্তর রক্ষিতপাড়া গ্রামে আত্নহত্যার ঘটনাটি সংঘটিত হলে ঘটনার দিন রাতেই গৃহবধূর পিতা মোঃ জয়নাল বেপারী বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মেয়ের জামাতা হারুণ মোল্লাকে একমাত্র আসামী করে ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৩। দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে ওইদিন রাতেই থানা পুলিশ অভিযুক্ত আসামী হারুণ মোল্লাকে গ্রেফতার করে পরদিন মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। এদিকে দায়েরকৃত মামলায় গৃহবধূর স্বামীকে একমাত্র আসামী করা হলেও আত্নহত্যার প্ররোচনায় জড়িত আরো বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় দশ বছর পূর্বে হারুণ মোল্লার সাথে সাথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী হারুন নেশাগ্রস্ত হয়ে পরে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়াঝাটি হতো। এমনকি স্বামী হারুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রী সাথীকে বেশ কয়েকবার শারিরীক নির্যাতন করে আসছিলো। ঘটনার দিন গৃহবধূ জয়নব নেছা ঝর্না ওরফে সাথী ও তার স্বামী হারুন মোল্লার সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। সাথীর শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি ঝগড়া সামাল দিতে না পেরে এক পর্যায়ে উত্তর রক্ষিত পাড়া গ্রামের মোহন শেখ, মোক্তার হাওলাদার ও মোঃ মীর আলী শেখ, মোঃ সাহিন ও আজাহার শেখসহ বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে ডেকে আনা হয়। তারা স্বামী স্ত্রীর বিচারের অনুমান আধা ঘন্টা পর সাথী তার দক্ষিণের ভিটির বসত ঘরের বাঁশের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, মাতব্বররা বিচার করে গৃহবধূ সাথীর উপর দোষ চাপানোর কারণেই কষ্টে সে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়। তবে অভিযুক্তরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন আত্নহত্যার ঘটনার আগে তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা গৃহবধূ সাথীর বিচার করেন নি! এ ব্যপারে অভিযুক্ত মোঃ মীর আলী শেখ বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছি কিন্তু কোন বিচার হয় নাই। আমি ছাড়াও সেখানে অনেকে উপস্থিত ছিলো৷ আমরা কোন বিচার করি নাই। মামলার বাদী জয়নাল বেপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মামলা করেছি। আমার মেয়ে মরার আগে মেম্বাররা আমাকে ফোন করে বিচারের কথা বলেছে। তার মধ্যে একজনের নাম মিরাজ ও একজনের নাম আফজাল। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। সিরাজদিখান থানার ওসি মোঃ বোরহান উদ্দিন বলেন, গৃহবধূ জয়নব নেছা ঝর্না ওরফে সাথীর বাবা মোঃ জয়নাল বেপারী আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। সোমবার রাতেই আসামী হারুন মোল্লাকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মুনিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।