স্টাফ রিপোর্টার,

বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতবাদীদল (বিএনপি)। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হচ্ছে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্তরের কমিটিগুলোও। ইতোমধ্যে জেলার আহ্বায়ক কমিটিসহ উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পুর্নগর্ঠনের এই প্রক্রিয়ায় এবার মুন্সিগঞ্জ জেলা ও সিরাজদিখান উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্রগুলো বলছে, বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ও কর্মী বান্ধব নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে হাইকমান্ড থেকে। পুর্নগর্ঠনের এই প্রক্রিয়ার শুরুর পর থেকে পদ প্রত্যাশী একাধিক নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে নানাভাবে কাজ করছে। যেসব নেতা বিগত এক দশকেরও মাঠে ছিলেন না, দল ঘোষিত কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি তারাও রয়েছেন এই তালিকায়। সিরাজদিখানে একাধিক ইউনিয়নের যুবদল নেতারা দাবি রেখে বলেছেন, তারা কর্মী বান্ধব ও বিগত দিনে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, এমন নেতাকে কমিটিতে দেখতে চান। চাপিয়ে দেওয়া কোনো কমিটি তারা মেনে নিবেন না।
জানতে চাইলে কেয়াইন ইউনিয়নের যুবদল কর্মী সুশীল ও বাবু জানান, যে নেতা বিগত আন্দোলনে মাঠে ছিল, কর্মীদের সুখ দুঃখে পাশে ছিল, জুলুম নির্যাতন সহ্য করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শ থেকে সরে যায়নি তাকে পদ দেওয়া হোক। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করবে। লতব্দী ইউনিয়নের যুবদল কর্মী শেখ আরিফ জানান, নেতা বাছাইয়ের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা যেন খোঁজ খবর নিয়ে নেতা নির্বাচন করেন। মাঠে থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে ঘরে থাকা নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক যুবদল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা যুবদলে পদ প্রত্যাশীদের অনেকেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবির করছেন। সিরাদিখান যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় ৬/৭ নেতা মাঠে রয়েছেন। এদের মধ্যে ২/৩ জন বিগত এক দশক মাঠের রাজনীতিতে জেল জুলুম সহ্য করে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। বাকিরা কেউ কেউ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে চাকরি বা ব্যবসায় সময় দিয়েছেন। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে দুরবর্তী জেলায় গিয়ে চাকরিও করছেন। কমিটির বিষয়টি সামনে আসায় তারা এলাকা মুখী হয়েছেন। প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক
পর সিরাজদিখান যুবদলের কমিটি পুর্নগর্ঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সিরাজদিখানে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, যেসব নেতা বিগত ১০ বছর মাঠে ছিলেন তাদের মধ্যে সদ্য সাবেক যুবদল জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্স নাদিম অন্যতম। তিনি বর্তমান সিরাজদিখান উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। উপজেলার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রার্থী তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে তার হয়ে প্রচারণ চালাচ্ছেন কর্মীরা। ১৯৯৬ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সম্রাট ইকবালের হাত ধরে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়ে ১৯৯৯ সালে কেয়াইন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক ও ২০০৩ সালে কেয়াইন ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০১২ সালে উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ও ২০২১ সালে জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে রাজনৈতিক মামলায় প্রথমবার আসামী হন নাদিম। জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে ১৬টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় সরকার পতনের হরতালে অংশগ্রহণ করে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়াসহ রাজনৈতিক জীবনে গত এক দশকে ৯ বার গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন নির্যাতিত এই নেতা। পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনীতি না করার বিধিনিষেধ থাকলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি আকুণ্ঠ ভালবাসায় দলের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবন সংক্রান্তে জানতে চাইলে প্রিন্স নাদিম মুঠোফোনে বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শে, বেগম খালেদা জিয়ার মমতায়, তারেক রহমানের নির্দেশে দলের হয়ে কাজে করে যাচ্ছি। পদ পাই বা না পাই দলের যেকোন আন্দোলন সংগামে অতীতে ছিলাম, বর্তমানে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। দলের নীতিনির্ধারকরা যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন, তারা আমাকে মূল্যয়ন করবেন বলে বিশ্বাস করি। নাদিম ছাড়াও আরো যাদের কথা শোনা যাচ্ছে তারা এখন অবদি পদ প্রার্থী হয়ে প্রকাশ্যে আসেন নি