মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার,

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। উপজেলা জুড়ে পুরো দমে শুরু হয়ে আলু উত্তোলনের কাজ। এ বছর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ১শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার কিছু অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কিছু কিছু অঞ্চলে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন পাননি কৃষক। এক দিকে ফলন কম, আরেক দিকে আলুর দাম নিয়ে শঙ্কায় দুশ্চিন্তার যেন কমতি নেই কৃষকদের।এছাড়া আলু উৎপাদনে তুলনামূলক ভাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ বেশী হওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের কবলে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৪০ শতাংশ জমিতে আলু চাষে গত বছর কৃষকদের খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু এ বছর বীজ, সার, কীটনাশক অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বেশী হওয়ায় একই জমিত আলু চাষে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া আলু রোপনের পর মৌসুমের প্রথম দিকে ভারি বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের রোপনকৃত আলুর বীজ পচে যাওয়ায় পুনরায় বীজ কিনে রোপন করতে হয়। আলু চাষাবাদে দুই দিক থেকে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কাই বেশী। এমনটাই জানিয়েছেন কৃষক। এদিকে বর্তমান বাজারদর হিসেবে প্রতি মন আলুর দাম ৬শ থেকে ৬শ ৫০ টাকা। যা কৃষকদের উৎপাদনের খরচের চেয়ে অনেক কম। উপজেলার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত। উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়। তবে এ বছর গত বছরের চেয়ে ২৫০ হেক্টর কম তথা ৯ হাজার ১ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদফতরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, এ বছর সিরাজদিখানে ৯ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে।ভালো ফলনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে এসেছি। অনেক কৃষক বলেছেন তাদের ফলন ভালো হয়েছে, অনেকের ফলন তেমন ভালো পাননি বলেই জানিয়েছেন। আশা রাখি এবার কৃষকরা আলুর ভালো দাম পাবেন। পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের কৃষক গোপাল দাস বলেন, আমি এবার দেড় কানি (২১০ শতাংশ) জমিতে আলু বুনেছি। গত বছরের চেয়ে এবার খরচ বেশি হয়েছে। ফলন ভালো মন্দ মিলিয়েই হয়েছে। এখন আলুর দাম পাই কিনা সেটা নিয়েই যত চিন্তা! উপজেলা কৃষি অধিদফতের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, এ বছর ৯ হাজার ১ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। ভালো আলু উৎপানে কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা তাদের আলুর ন্যায্য দাম পাবে এটাই প্রত্যাশা।