আরিফ হোসেন হারিছ (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈত্রিক বসতভিটা ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিলকৃষ্ণ ঘোষের বিরুদ্ধে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকার নিতাই চন্দ্র দাসের পৈত্রিক বসতবাড়ি ও মন্দির দখলের চেষ্টা চালায় নিলকৃষ্ণ ঘোষ ও ইসকনের লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন যাবত নিতাই চন্দ্র দাশ বাবাজীর সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নীলকৃষ্ণ ঘোষ, চন্দন কুন্ডু, রাম ঘোষ, রতন ঘোষ, উত্তম ঘোষ ও নিখিল ঘোষ গ্রুপের মধ্যে বসভিটা ও মন্দিরের জমি নিয়ে মামলা চলছে। পরে মামলা চলাকালিন সময় সুপ্রিম কোর্ট এ জমির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু বুধবার সকালে নীলকৃষ্ণ গ্রুপ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসকনের লোকজন দিয়ে এ জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা করা সাইনবোর্ড কালি দিয়ে মুছে দেন। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী নিতাই চন্দ্র বলেন, আব্দুল্লাহপুর মৌজার সিএস ও এসএ ১২৭নং এবং আরএস ১৩১ নম্বর দাগের ৪৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর যাবত মামলা চলছে। মুন্সিগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে আমার পক্ষে মামলার রায় হলেও হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টে আমি আপিল করলে আপিল বিভাগ এ জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ নীলকৃষ্ণ ঘোষ নারায়ণগঞ্জ ইসকনের লোকজন দিয়ে এ জমির চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের প্রাণনাশের হুমকি-দমকি প্রদান করছে। বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক অবৈধ অস্ত্রধারি লোকজন নিয়ে জমির ওপর ইট-বালু দেয়াল ও টয়লেট তৈরির চেষ্টা চালান।
অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে আব্দুল্লাহপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নীলকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, নিতাই দীর্ঘ বছর ধরে মন্দিরের জমি ভোগ দখল করছে। এখন সে মন্দিরের জমি পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছেন। মন্দির কমিটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট কমিটির পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে সে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ সুযোগে নিতাই মন্দিরের পূজা আর্চনা বন্ধের পায়তারা করছে।
আব্দুল্লাহপুর ইসকনের দায়িত্বে থাকা দিনেশ্বর গৌরদাস বলেন, মন্দির কমিটি এখানে পূজা আর্চনা করার জন্য আমাদের দিয়েছেন। আমরা অনেকদিন যাবত এখানে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আজ সকালে এসে দেখি মন্দিরে তালা দেওয়া। পরে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে আমাদের জন্য উন্মক্ত করে দেন। আমাদের কাজ মানুষের সেবা ও পূজা আর্চনা করা, মন্দির দখল করা না।
টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, অনেকদিন আগে নিতাই চন্দ্র দাশ আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞার কাগজ দিয়েছিলো। পরে সে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এ নিয়ে সকালে ঝামেলা হয়েছে কীনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।