লিমন মিয়া,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহ সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে যোগদান করেন মোঃ মিজানুর রহমান।যোগদানের পর থেকেই সদর থানা এলাকায় আইনি সেবা ও নিরাপত্তায় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়ার রাস্তা সহজ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যপক উন্নতি সাধন করেছেন।উজ্জ্বল করেছেন পুলিশের ভাবমূর্তি। ঝিনাইদহ সদর থানা এলাকার হাটগোপালপুর, বেতাই-চন্ডিপুর, নারিকেলবাড়িয়া, ডাকবাংলা, কাতলামারী পুলিশ ফাঁড়িতে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থা করেছেন।

ডাকবাংলা বাজার দোকানমালিক ও রাইচ মিল মালিক সমিতি হাটগোপালপুর বাজার দোকান মালিক সমিতির সৌজন্যে পুলিশের জন্য উপহার হিসাবে পেয়েছেন ২টি গাড়ি।সদর থানা এলাকায় বৃদ্ধি করেছেন টহল টিম। বিট পুলিশিং সাংগঠনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে সেবা পৌছিয়ে দিয়েছেন মানুষের দোর-গোড়ায়।সকল মানুষের জন্য থানা ছিল উন্মুক্ত। তিনি দায়িত্ব পালনকালে ঝিনাইদহে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ করে হিজড়াদের মধ্যে বিবাদমান দ্বন্দ্ব নিরসন করে বার বার করেছেন ত্রাণের ব্যবস্থা।

করোনা কালীন সময়ে দায়িত্বে এসে তিনি নিজ উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ,গ্রাম পুলিশের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম’র লাশ দাফনকারী দলের মধ্যেও ত্রাণ বিতরণ করে উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি থানায় যোগদান করার পরে গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেফতার, মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। তিনি মাদক বিরোধী অভিযানে সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মাদক নির্মূলে নিয়েছেন ব্যপক ভূমিকা। জিডি করে হারানো মোবাইল, মোটরসাইকেল ফিরে পেয়েছেন অসংখ্য মানুষ। অভিযোগ পেয়ে পাওনা টাকা আদায় করে দিয়েছেন অসংখ্য মানুষের। এলাকায় সুদকারবারি মহাজনদের করেছেন নিষ্কৃয়।

করোনাকালীন সময়ে করোনা সন্দেহে পরিবার থেকে ত্যাগ করা প্রতিবন্ধীকে উদ্ধার করে নিজ দায়িত্বে করেছেন চিকিৎসার ব্যবস্থা। করেছেন ওল্ডহোমে থাকার ব্যবস্থা। শিশু উদ্ধার করে নিঃসন্তান দম্পতির হেফাজতে প্রদান,অজ্ঞাত বৃদ্ধ মহিলাকে উদ্ধার করে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার ব্যবস্থা।রাতে খবর পেয়ে পুলিশের টহল গাড়িতে প্রসূতি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া।মধ্যরাতে পুলিশের গাড়িতে করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌছে দেওয়া সহ অসংখ্য মানবিক কাজের স্বাক্ষী ঝিনাইদহ সদর থানা এলাকার মানুষেরা। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিবাদমান এলাকায় বার বার আইন শৃঙ্খলা সভা করে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা করে এলাকার পরিবেশ রেখেছেন শান্ত। দলমত ও দলীয় গ্রুপিং নির্বিশেষে সবাইকে আইনি সেবা পেতে সুযোগ দিয়েছেন।ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারের নির্দেশে তিনি সদর থানাকে রেখেছেন দুর্নীতি মুক্ত। তার যোগদানের পর থেকে জিডি,পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মামলা করতে কাউকে টাকা দেওয়া লাগেনি এমন বক্তব্য এলাকার মানুষের।

বর্তমান পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম ও পুলিশ বিভাগকে রেখেছেন কঠোর নজরদারিতে।সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঝিনাইদহ সদর থানা হয়ে উঠেছিল মানবিক পুলিশ টিম। ১৫ জুলাই তিনি সদর থানার অফিসার ইনচার্জের চার্জ হস্তান্তর করেছেন। ওসি মিজানুর রহমান জানান, সাবেক পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান স্যার ও বর্তমান পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম স্যার এবং সদর সার্কেল আবুল বাশার স্যারের নির্দেশনায় বিভাগীয় অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। আমার ঊর্ধ্বতন অফিসারেরা অনেক বিজ্ঞ। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি চেষ্টা করেছি আমার থানাকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে। মানুষের প্রয়োজনে ছুটে গেছি। আমার অফিসারেরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছে।করোনাকালীন সময়ে কাজ করতে গিয়ে আমার অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। পরিশ্রম করেছে। সব সময় চেষ্টা করেছি সরকারের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে।

আপনার মতামত দিন