লিমন মিয়া,ঝিনাইদহ-

ঝিনাইদহে কোরবানি ঈদ সামনে করে ভালো বাজার পাওয়ার আশায় জেলাতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পশু পালন করা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০৩ টি। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি। করোনার চলমান লকডাউনে শঙ্কায় রয়েছে এসব খামারী ও পশু পালনকারীরা।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে। তথ্য নিয়ে জানাগেছে, গত বছর জেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০২টি কোরবানি করা হয়। গতবারের কোরবানির সংখ্যাকেই চাহিদা হিসাবে দেখছে জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। তবে পারিবারিকভাবে পালিত জেলায় ৩০ হাজারের মত পশু কোরবানি হতে পারে। প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত পশু উতবৃত্ত থাকবে। যা দেশের অন্য জেলায় যাবে। জেলায় দেড় হাজার কোটি টাকা মূল্যের পশু পালিত হয়েছে। সাধারণত ঝিনাইদহে অন্য জেলা থেকে কোরবানির গরু ছাগল আসে না। তবে কিছু সৌখিন মানুষ আছে যারা মহিষ,ভেড়া ও অন্যান্য পশু দেশের অন্য জেলা থেকে নিয়ে আসেন।

গতবছর গরু ও ছাগল ছাড়া ৬৪২টি অন্যান্য পশু কোরবানি হয়েছিল। ২০২০ সালের মার্চ থেকে দেশে করোনা কারণে লকডাউন শুরু হলে প্রভাব পড়ে মানুষের ব্যবসা ও চাকরিতে।অনেকেই চাকরি হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসে পশু পালন শুরু করে। পশুর খাবারের দাম বেশি হওয়ায় ঋণ-ধার করে কোরবানির ঈদকে সামনে করে পশু মোটাতাজাকরণ কাজ চালিয়ে এসেছে অনেকেই। এইরকম খামারীদের দাবি,ঈদের সামনে মোটাতাজা করা পশু বাজারে বিক্রি করতে না পারলে মাঠে মারা যাবে তারা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামের সানা মুসল্লীর ছেলে রুবেল মুসল্লী। সে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঈদের বাজার টার্গেট করে গরু মোটাতাজা করেছে। একটি গরু ইতোমধ্যে খামার থেকে বিক্রি করে দিয়েছে। আরও কয়েকটি গরু রয়েছে তার। বেতাই গ্রামের রুবেলের মত অনেকেরই ঈদের বাজারে ছাড়ার জন্য গরু রয়েছে। রুবেল মুসল্লী জানান, করোনার কারণে অন্য সব ব্যবসার বাজে অবস্থা। গরু পালন করি ঈদের বাজার টার্গেট করে। লকডাউনের সময় সীমা বাড়ছে আর অজানা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে আমাদের মত খামারীদের মনে। ঈদের আগে বাজার ধরতে না পারলে আমরা মাঠে মারা যাবো। এখন গরুর খাবারের দাম অনেক। ধার দেনা করে এই পর্যন্ত চালিয়ে আসছি। সরকারের কাছে দাবি ঈদের আগে পশু হাটের ব্যবস্থা করতে হবে। জেলায় সদরের গান্না বাজার,শৈলকুপার ভাটই বাজার,সদরের বৈডাঙ্গা বাজার,মহেশপুরের খালিশপুর,সদরের নারিকেলবাড়িয়া বড় পশুর হাট। এর মধ্যে ভাটই বাজার খাশ কালেকশন হচ্ছে এবছর। গান্না,বৈডাঙ্গা, খালিশপুর ও নারিকেলবাড়িয়া পশুর হাট ইজারা নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্য গান্না বাজারের ইজারা মূল্য ১ কোটি সাড়ে ৩ লাখ,বৈডাঙ্গা ৪৬ লাখ ও খালিশপুর হাটের ইজারা মূল্যও অর্ধকোটির উপরে। বাজারের ইজারাদাররা কোরবানি ঈদের বাজারে ব্যবসার ৪০% টার্গেট করে। কিন্তু এই দুই বছর করোনার কারণে কোরবানির আগেও হাট বন্ধ থাকার কারণে লস খাচ্ছে ইজারাদারেরা। গান্না বাজারের ইজারাদার নিলুয়ার জোয়ার্দার জানান, আমাদের কোরবানির ঈদের আগের বেচাকেনাকে টার্গেট করে ব্যবসা নির্ধারণ হয়ে থাকে।কিন্তু এবছর লকডাউনের কারণে হাট বসছে না। বাইরে থেকে ক্রেতা-ব্যাপারীরা আসছে না।

যার কারণে আমরা প্রচণ্ড লসে আছি। ঈদের আগে খামারী ও ইজারাদারদের কথা চিন্তা করে সরকার কোন ব্যবস্থা না নিলে খামারী ও আমরা চরম লসের মধ্যে পড়বো। নারিকেলবাড়িয়া বাজারের ইজারাদার অলিম্পিক হোসেন জানান, সরকারের অবশ্যই ঈদের সামনে করে পশুর হাটের বিষয়ে বিবেচনা করা উচিত। শৈলকুপার নিত্যানান্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হাটগোপালপুরের আতিয়ার একটি ফ্রিজিয়ান ষাঁড় পালন করেছে। যার ওজন ১২০০ কেজির মত। এইরকম মহেশপুর,কালীগঞ্জ,শৈলকুপায় অসংখ্য গরু মোটাতাজা করা হয়েছে।জেলায় এবার ৫২৩২৮টি ছাগল পাগল করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ মণ ওজনের ছাগল পালিত হয়েছে জেলায়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এবার দেশীয় খামারিদের জন্য আশার বানী হচ্ছে।এবছর ইন্ডিয়া থেকে কোন পশু ঢুকতে দেওয়া হবে না।তাহলে দেশীয় খামারীরা ন্যায্য দামে বিক্রয় করতে পারবে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা: আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, আমাদের জেলায় কোরবানিতে যে পশুর চাহিদা রয়েছে তা পুরণ করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজারের মত গরু-ছাগল উতবৃত্ত থাকবে। সেই গুলো দেশের অন্য জেলার বাজারে বিক্রয় করতে হবে। আমাদের জেলা থেকে ঈদের সামনে ঢাকা,সিলেট,চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু-ছাগল যায়। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তবে আশা করা যায় ঈদের আগে খামারীরা এবং বাজারের ইজারাদারেরা বাজার ধরতে পারে সেই বিষয়ে কার্যকরি সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।