মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার,

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাকিব, মাশরাফি ও মুস্তাফিজরা ক্রীকেটের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে যেমন বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তেমনি নিগার সুলতানা, মুর্শিদা খাতুন, নুজহাত তাসনিয়া, ফারজানা হকদের ভূমিকাও কম নয়।পুরুষ ক্রীকেটারদের পাশপাশি নারী ক্রীকেটাররাও সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের নারী ক্রীকেটারদের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মা রুবি মজুমদার তার দুই কন্যা তৈয়্যিবা শেখ আসকা (১৫) ও তাসফিয়া তাবাসসুম আনিকা (১৪) দের ক্রীকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুলতানা, মুর্শিদা খাতুন, নুজহাতদের মত ক্রিকেটার হয়ে জাতীয় ক্রিকেটে বড় অবদান রাখার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মায়ের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তৈয়্যিবা শেখ আসকা ও তার বোন তাসফিয়া তাবাসসুম আনিকা। মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবা আলমাস শেখ ও তার পরিবারের লোকজন ক্রীকেটের প্রতি অনীহা থাকায় ভাড়া বাসায় থেকে মেয়েদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন মা রুবি মজুমদার। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠার তৈয়বা শেখ আসকা ও তাসফিয়া তাবাসসুম আনিকা ক্রীকেটকে আগে থেকেই পছন্দ করতেন। প্রথমে তারা দুই বোন স্থানীয় একটি ক্রীকেট একাডেমিতে ক্রীকেট শেখার জন্য প্র্যাকটিস শুরু করেন। রাজকীয় এ ক্রীকেট খেলা শিখে ভালো মানে ক্রীকেটার হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ ও সঠিক গাইড লাইন না থাকায় মা রুবি মজুমদার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারীতে ঢাকার মিরপুরের সিটি ক্রাব নামে একটি ক্লাবে তাদের ভর্তি করেন। সেখানে ২-৩ মাস প্র্যাকটিস করার পর তাদের দুই বোনকে ঢাকার ফার্মগেটের তেজকুনিপাড়া খেলাঘর ক্রীকেট একাডেমিতে ভর্তি করেন। বিপত্তি বাধে যাতায়াতে।
সপ্তাহে ৪-৫ দিন ৬০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে সেখানে গিয়ে ক্রীকেট শিখতে হয়। দিনে আড়াই থেকে ৩ ঘন্টা জার্নি করে সিরাজদিখান থেকে খেলাঘর ক্রীকেট একাডেমিতে ক্রীকেট প্র্যাকটিস করাটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও স্বপ্ন পুরনে একটুও পিছপা হননি তারা। রুবি মজুমদার পেশায় একজন নৃত্য শিক্ষক। তিনি ইশিকা পদ্নকুড়ি একাডেমি খুলে নিজে প্রশিক্ষন দেওয়ার পাশাপাশি শিশু একাডেমিতে নৃত্য প্রশিক্ষণের কাজ করে মাসে যা আয় হয় তা দিয়ে মেয়েদের ক্রীকেট প্র্যাকটিসের পিছনে ব্যয় করে আসছেন। মায়ের পাশাপাশি মেয়েদের নৃত্যের আয়ের পুরোটাই ক্রীকেটের পেছনে ব্যয় করে স্বপ্ন পুরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তৈয়্যিবা শেখ আসকা রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণী ও ছোট বোন তাসফিয়া তাবাসসুম আনিকা একই স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন। তারা দুই বোন গত দেড় বছর ধরে ঢাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। তবে মাঝে করোনার কারণে বেশকিছু দিন তাদের প্র্যাকটিস বন্ধ ছিল। ভোর ৪ টায় উঠে ৫ টায় রওয়ানা দিয়ে ঢাকায় যেতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগলেও প্র্যাকটিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় যানজট থাকায় সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। যাতায়াতে করতে হয় ৬০ কিলোমিটার।
রুবি মজুমদার বলেন, আমার মেয়েরা ক্রীকেটে ভালো করছে। তাদের ফিটনেসও ভালো। ওদের বাবার ক্রীকেটের প্রতি অনীহা থাকা স্বত্বেও আমি মা হিসেবে তাদের সার্বিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। আমার নৃত্য একাডেমি দিয়ে যা আয় হয় এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন প্রোগ্রামে পারফম করে যা আয় হয় তা দিয়ে ক্রীকেটের প্রশিক্ষন চালানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে হয়তো তারা আরো ভালো করতে পারতো। একজন ক্রীকেটার হয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা।