মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার,

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ (গ্রামীন ব্যাংক) থেকে গুয়াখোলা যাতায়াতের প্রধান সড়কসহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাস্তা সংস্কার না হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন যাবত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার হাজারো মানুষের। বিশেষ করে বাসাইল বাজার ব্রীজ থেকে গুয়াখোলা বাগবাড়ি কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত না হওয়ায় এলাকাবাসীর দূর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রায় বছর খানেক পূর্বে রাস্তাটির সংস্কারের কাজ শুরু করা হলেও প্রায় ৯ মাস ধরে রহস্যজনক কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে মর্মে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে ইউনিয়নটির সিংহভাগ মানুষ যাতায়াত ভোগান্তির পাশাপাশি মালামাল আনা নেওয়ায় পরেছেন বেকায়দায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল বাজার ব্রীজ থেকে গুয়াখোলা বাগবাড়ি কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) প্রকৌশল অধিদপ্তর। আর এই কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পায় মেসার্স এস.সরকার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করে প্রায় ৯ মাস ধরে রহস্যজনক কারণে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর আগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরুর পর ইটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩-৪ মাস সংস্কার কাজ বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়রা বলেন, কাজ শুরুর পর তার কয়েকমাস কাজ বন্ধ রেখেছে। এখন আবার ৮-৯ মাস ধরে কাজ বন্ধ। কয়দিন পর পর তারা কাজ বন্ধ রাখলে তাদেরতো সমস্যা না হলেও আমাদেরতো চলাচলে সমস্যা হয়ে যায়। বাসাইলের মানুষ রাস্তাঘাটের কারণে যে পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হয় আর কোন ইউনিয়নের মানুষকে এমন ভোগান্তি পোহাতে হয় না। চেয়ারম্যান মেম্বাররা তাদের নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে আমাদের সমস্যা দেখা তাদের সময় হয় না। আমরা চাই বাসাইলের রাস্তাগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসাইল বাজার ব্রীজ থেকে গুয়াখোরা বাগবাড়ি কবরস্থান পর্যন্ত সংস্কাররত রাস্তায় ইটের শুরকি বিছানোর কাজ সম্পন্নের পর একটানা প্রায় ৯ মাস ধরে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখায় রাস্তায় বিছানো ইটের শুরকি বেশ কয়েকজন স্থানে উঠে গিয়ে বৃষ্টির পানির কারণে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমাট বেধে বেহাল অবস্থায় পতিত হয়। ফলে রাস্তা সংলগ্ন বাসাইল উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে পরতে হচ্ছে বেকায়দায়। এদিকে বাসাইল উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে রাঙামালিয়া যাতায়াতের মাটির রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পরে থাকতে দেখা গেছে। মাটির রাস্তাটির সংস্কার ও পাকা করণের উদ্যোগ কয়েক বছরেও নেওয়া হয়।অন্যদিকে রাস্তটির শেষের দিকে অবস্থিত বাসাইল খালের উপর নির্মিত ব্রীজটির মাঝখানে বেশ কয়েক মাস ধরে ভাঙন ধরে পরে থাকতে দেখা গেছে। এতে যাতায়াতে অনেকটাই বেকায়দায় পরেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ব্যপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস.সরকার এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারীর মোঃ রন্টুর মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম জানান, আমি নতুন এসেছি এ ব্যপারে না জেনে কিছু বলতে পারছি না। আপনি ঈদের পরে আসেন।