আরিফ হোসেন হারিছ

সময়ে সময়ে আলোচনা-সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশি মুখরোচক হয়ে ওঠে। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারা যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তা আমরা ভুলে যাই। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করি আমরাই। তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে হাজারো রিমন হোসাইন। যারা সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার মতো মানবিক কাজগুলোও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।কথাগুলো যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তিনি হলেন রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা,আরএমপি,কর্মরত এসআই রিমন হোসাইন।
গত ৫মে ২০২২ এর সকাল সাড়ে ১০টার ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ডিউটি পরেছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের ১ নং গেটে তখন হঠাৎ তার নজরে আসে কিছু লোক জড়ো হয়ে আছেন।তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন এক রিকশাওয়ালা চিল্লাচিল্লি করতেছে আর একটি মেয়ে পরিক্ষার হলের দিকে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি তিনি জানতে চাইলে রিকশাওয়ালা বলেন ভাড়া না দিয়ে মেয়েটি চলে যাচ্ছে। কিছু না ভেবে সাথে সাথে পকেট থেকে ১শত টাকা বের করে রিকশাওয়ালা কে বিদায় করে দেন।

এ-সময় পাশে কেউ একজন ছবি তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন তাতে তিনি লিখেন facebook রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার Shajib Khan ছবিতে যাকে দেখেছেন সে সাধারণ পুলিশ নয়, আমার দৃষ্টিতে অনন্য একজন।
ছবিটি শহিদুল্লাহ কলা ভবনের মেইন ফটোক থেকে তোলা। একটা পরিক্ষার্থী পরিক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে রিক্সায় করে তাড়াহুড়ো করে নামিয়ে যায় এবং ৩০ টাকা ভারা দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। কিন্তু ভারা ছিল ১৫০ টাকার মতো।তখন রিক্সাওয়ালা মামা ও-ই রুমের দিকে যাচ্ছিল এবং চিল্লা চিল্লি করছিল। তখন এ-ই পুলিশ ভাই নিজের পকেট থেকে ১০০ টাকা বের করে দিল।দৃশ্যটি আজ ভর্তি পরীক্ষায় আমার দৃষ্টিতে স্মরণীয় দৃশ্য।এরকম মানবিক পুলিশও আছে। সব পুলিশ ভাইসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এরকম মানবিক মনের হোক এটাই কাম্য।